রুইদাস বাড়ি কালী মন্দির | রামানন্দ বাটী

রুইদাস বাড়ি কালী মা

রুইদাস বাড়ি কালী মন্দির | রামানন্দ বাটী

রুই দাস বাড়ি কালী মা

ক্ষমা প্রার্থনা

জয় মা কালী

হে পরমেশ্বরি ! প্রতি দিন আমি হাজার হাজার অপরাধ করে থাকি। ‘এ আমার দাস’—এই মনে করে আমার সেই অপরাধ তুমি কৃপা করে ক্ষমা করো৷৷ ১ ৷৷ হে পরমেশ্বরি ! আমি না জানি আবাহন, না জানি বিসর্জন আর পূজাও আমি জানি না। ক্ষমা করো।। ২ । হে দেবি ! সুরেশ্বরি ! মন্ত্রহীন, ক্রিয়াহীন, ভক্তিহীন যে পূজা আমি করছি, সে সব তোমার কৃপায় পূর্ণতাপ্রাপ্ত হোক। ৩ ॥ সহস্র অপরাধ করেও যে তোমার শরণ নিয়ে ‘মা জগদম্বা’ বলে ডাকে, ব্রহ্মাদি দেবতাদের যে গতি সুলভ নয়, সে সেই গতিও প্ৰাপ্ত হয়॥ ৪ ॥ হে জগদম্বিকে ! আমি অপরাধী, কিন্তু তোমার শরণ গ্রহণ করেছি, আমি তোমার দয়ার পাত্র। তুমি যা ভাল মনে কর, করো ॥ ৫ ॥ হে দেবি ! পরমেশ্বরি ! অজ্ঞানতাহেতু, ভুলবশতঃ অথবা বুদ্ধির ভ্রান্তির দরুন আমি যা ন্যূন বা অধিক করেছি, সেইসব তুমি ক্ষমা করো আর প্রসন্না হও ৷ ৬ ৷
সচ্চিদানন্দস্বরূপা পরমেশ্বরি ! জগন্মাতা কামেশ্বরি ! তুমি প্রীতিপূর্বক আমার এই পূজা গ্রহণ করো ও আমার প্রতি প্রসন্না হও ॥ ৭ ॥ হে দেবি ! সুরেশ্বরি ! তুমি গুহ্য থেকে গুহ্যতর বস্তুর রক্ষাকর্ত্রী। আমার নিবেদিত এই জপ গ্রহণ করো। তোমার কৃপায় আমার সিদ্ধিলাভ হোক৷ ৮ ॥

সশ্রদ্ধ স্বাগতম

রুইদাস বাড়ি কালী মন্দির

জয় মা কালী
পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শিয়াখালা-সংলগ্ন রামানন্দবাটীর এক প্রাচীন ঐতিহ্যের কেন্দ্র, রুইদাস বাড়ি কালী মন্দিরে আমরা আপনাকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। এই পুণ্যভূমি শুধু ইটের গাঁথনি বা পাথরের বিগ্রহ নয়; এটি শত শত বছর ধরে চলে আসা এক গভীর বিশ্বাস ও ভক্তির স্রোতধারা। মায়ের এই জাগ্রত স্থানটিতে প্রবেশ করলে আপনি অনুভব করবেন এক অপার্থিব শান্তি এবং শক্তির ছোঁয়া, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভক্তদের জীবনকে আলোকিত করে আসছে।

ধর্মের প্রতীক

মায়ের মহিমা ও মন্দিরের ঐতিহ্য

জয় মা কালী
রুইদাস বাড়ি কালী মন্দিরের প্রধান আরাধ্যা দেবী হলেন দক্ষিণেশ্বরী মা কালী। এই জাগ্রত মন্দিরটি রুইদাস পরিবারের বংশ পরম্পরার শত শত বছরের নিষ্ঠা ও বিশ্বাসের প্রতীক। লোকমুখে প্রচলিত মায়ের অপার মহিমা ভক্তদের মনে এক অলৌকিক শান্তি সঞ্চার করে। এখানে নিত্যদিন মায়ের আরাধনা হলেও, বার্ষিক প্রধান এবং সবচেয়ে মহাজাগতিক উৎসব হলো ফলহারিণী কালী পূজা।
প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের পুণ্য অমাবস্যা তিথিতে এই দুই দিনের দিব্য আরাধনা শুরু হয়। এই বিশেষ উৎসবের জন্য অন্য স্থান থেকে মা কালীর অপূর্ব মাটির প্রতিমা মন্দিরে নিয়ে আসা হয়। তন্ত্র ও শাস্ত্রসম্মত প্রাচীন রীতিনীতি মেনে রুইদাস পরিবারের নিজস্ব আচারে মায়ের পূজা সম্পন্ন হয়। এই ফলহারিণী রূপে মা ভক্তদের জীবনের সমস্ত অশুভ ফল হরণ করে শুভ ফল প্রদান করেন। এই আরাধনায় মায়ের সাথে মহাদেব শিবেরও পুজো করা হয়, যা শক্তি ও ভক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করে। এই পূজার আকর্ষণ সুদূর থেকেও বহু ভক্তকে মায়ের চরণে টেনে আনে।

ধর্মের প্রতীক

ধর্মের প্রতীক

আমাদের লক্ষ্য

জয় মা কালী
রুইদাস বাড়ি কালী মন্দিরের পবিত্র ঐতিহ্যকে সযত্নে রক্ষা করা এবং মায়ের করুণা ও আধ্যাত্মিক শক্তিকে প্রতিটি ভক্তের হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা এই মন্দিরকে শুধু একটি আরাধনার স্থান নয়, বরং সেবা ও সংহতির এক কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
ধর্মের প্রতীক
ধর্মের প্রতীক

সপ্তশতী কিছু সিদ্ধ সম্পুট-মন্ত্র

জয় মা কালী

শ্রীমার্কণ্ডেয়পুরাণে দেবীমাহাত্ম্যে ‘শ্লোক’ ‘অর্দ্ধশ্লোক’ এবং ‘উবাচ’ ইত্যাদি মিলে ৭০০টি মন্ত্র আছে। এই মাহাত্ম্য দুর্গাসপ্তশতী নামে আখ্যাত। অর্থ, ধর্ম, কাম, মোক্ষ—এই চার পুরুষার্থ প্রদানকারিণী সপ্তশতী। যে পুরুষ যেই ভাব ও যেই কামনা নিয়ে শ্রদ্ধা ও বিধিপূবর্ক সপ্তশতীপারায়ণ করে, সেই সেই ভাবনা ও কামনা অনুসারে সে সিদ্ধিলাভ নিশ্চয়ই করে। এই সত্যের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অসংখ্য মানুষের হয়েছে। নীচে এমন কতকগুলি মন্ত্র উদ্ধৃত করা হল, যা সম্পুট দিয়ে বিধিমত পারায়ণ করলে বিভিন্ন পুরুষার্থের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত সিদ্ধিলাভ হয়। এর মধ্যে অধিকাংশই সপ্তশতীর মন্ত্র। কিছু সপ্তশতীর বাইরেরও আছে—

(১) সামগ্রিক কল্যাণের জন্য

দেব্যা যয়া ততমিদং জগদাত্মশক্ত্যা।
নিঃশেষদেবগণশক্তিসমূহমূর্ত্যা।
তামম্বিকামখিলদেবমহর্ষিপূজ্যাং
ভক্ত্যা নতাঃ স্ম বিদধাতু শুভানি সা নঃ৷৷

(২) বিশ্বের অশুভ শক্তি তথা ভয়ের নাশের জন্য

যস্যাঃ প্রভাবমতুলং ভগবাননস্তো
ব্রহ্মা হরশ্চ ন হি বক্তুমলং বলঞ্চ।
সা চণ্ডিকাখিলজগৎপরিপালনায়
নাশায় চাশুম্ভভভয়স্য মতিং করোতু৷৷

(৩) বিশ্বের রক্ষার জন্য

যা শ্রীঃ স্বয়ং সুকৃতিনাং ভবনেধলক্ষ্মীঃ
পাপাত্মনাং কৃতধিয়াং হৃদয়েষু বুদ্ধিঃ।
শ্রদ্ধা সতাং কুলজনপ্রভবস্য লজ্জা
তাং ত্বাং নতাঃ স্ম পরিপালয় দেবি বিশ্বম্৷৷

(৪) বিশ্বের অভ্যুত্থানের জন্য

বিশ্বেশ্বরি ত্বং পরিপাসি বিশ্বং
বিশ্বাত্মিকা ধারয়সীতি বিশ্বম্|
বিশ্বেশবন্দ্যা ভবতী ভবন্তি
বিশ্বাশ্রয়া যে ত্বয়ি ভক্তিনম্ৰাঃ৷৷

(৫) বিশ্বব্যাপী বিপত্তিসমূহের বিনাশের জন্য

দেবি প্রপন্নার্তিহরে প্রসীদ
প্রসীদ মাতর্জগতোঽখিলস্য।
প্রসীদ বিশ্বেশ্বরি পাহি বিশ্বং
ত্বমীশ্বরী দেবি চরাচরস্য।

(৬) বিশ্বের পাপ-তাপ নিবারণ করার জন্য

দেবি প্রসীদ পরিপালয় নোহরিভীতে-
নিত্যং যথাসুরবধাদধুনৈব সদ্যঃ ।
পাপানি সর্বজগতা প্রশম নয়াশু
উৎপাতপাকজনিতাংশ্চ মহোপসর্গান্৷

(৭) বিপত্তি বিনাশের জন্য

শরণাগতদীনার্তপরিত্রাণপরায়ণে ।
সর্বস্যার্তিহরে দেবি নারায়ণি নমোহস্তু তে ৷৷

(৮) বিপত্তি-নাশ এবং মঙ্গল লাভের জন্য

করোতু সা নঃ শুভহেতুরীশ্বরী।
শুভানি ভদ্রাণ্যভিহন্তু চাপদঃ ।

(৯) ভয় নাশের জন্য

(ক) সর্বস্বরূপে সর্বেশে সর্বশক্তিসমন্বিতে।
ভয়েভ্যস্ত্রাহি নো দেবি দুর্গে দেবি নমোহস্তু তে৷৷

(খ) এতৎ তে বদনং সৌম্যং লোচনত্রয়ভূষিতম্।
পাতু নঃ সর্বভীতিভ্যঃ কাত্যায়নি নমোহস্তু তে ৷৷

(গ) জ্বালাকরালমত্যুগ্রমশেষাসুরসূদনম্ ।
ত্রিশূলং পাতু নো ভীতেভদ্রকালি নমোহস্তু তে৷৷

(১০) পাপ নাশের জন্য

হিনস্তি দৈত্যতেজাংসি স্বনেনাপূর্য যা জগৎ।
সা ঘন্টা পাতু নো দেবি পাপেভ্যোঽনঃ সুতানিব ৷৷

রুই দাস বাড়ি কালী মা

গ্যালারি

জয় মা কালী
শিয়াখালা এবং এর আশেপাশের অন্যান্য প্রাচীন মন্দির
জয় মা কালী

কবিরাজ বাড়ির কালী মন্দির

উত্তরবাহিনী মন্দির

রাজবল্লভী কালীমন্দির

রামপাড়া সিদ্ধেশ্বরী কালী মা

দর্শন ও যোগাযোগ

জয় মা কালী
রুইদাস বাড়ি কালী মন্দির আপনার জন্য উন্মুক্ত। মায়ের সান্নিধ্যে আসুন এবং এই পবিত্র স্থানের ইতিহাস ও শান্তি অনুভব করুন।

ঠিকানা

ফোন নম্বর

বাপি রুইদাস
+91 6283623262

Email

ফলো করুন

রুইদাস বাড়ি কালী মন্দিরের মানচিত্র

জয় মা কালী

কবিরাজ বাড়ির কালী মন্দির

শিয়াখাল কবিরাজ বাড়ির কালীপুজোয় আজও ভিড় জমান হাজার হাজার দর্শনার্থী

জাগিপাড়া বিধানসভার শিয়াখোলা পঞ্চায়েতের রাধানগরেই অবস্থিত কবিরাজ বাড়ির আরাধ্যা দেবতা কালী। বহু বছর ধরে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত এবং দর্শনার্থী এই পুজোতে আসেন।
প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো কবিরাজ বাড়ির এই কালীপুজো আজও একইভাবে চলে আসছে।

পরিবারের পূর্বপুরুষরা নরায়ণ মন্দিরের মূল মন্দিরের পেছনে মন্দির নির্মাণ করে চারটি দেবমূর্তি স্থাপন করেন। এই পরিবারের নামেই মন্দিরটি পরিচিত ছিল। যদিও বর্তমানে নাম পরিবর্তন করে অন্য নামে পরিচিত।

তবে পরিবারের সদস্যদের মতে, আগে ডাকাতদলের উপদ্রব বেশি ছিল। সেই সময় কবিরাজ বাড়িতে দেবীর শ্রীমূর্তি স্থাপন করা হলে ডাকাতির উপদ্রব কমে যায়।

এখনও কালীপুজোর দিন মোষ বলি দেওয়া হয়। প্রতিবারের মতো এ বছরও বিপুল ভিড় জমেছে। কবিরাজ বাড়ির ঠাকুরদালান এবং দেবীপ্রতিমার দর্শনের জন্য মানুষের ঢল নেমেছে।

Click on Google Map

This will close in 20 seconds

উত্তরবাহিনী মন্দির

উত্তরবাহিনী মন্দির, যা শিয়াখালা দেবী নামেও পরিচিত, একটি জাগ্রত এবং প্রাচীন লোকায়ত মন্দির, যার ইতিহাস লোককথা ও বিশ্বাসে জড়িত; মূল বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবীর রাগের কারণে তাঁর মুখ উত্তর দিকে ঘুরে যাওয়ায় ও ভৌমিকের নৌকা ডুবে যাওয়ায় এই নাম, যা প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো এবং একসময় এটি ছিল একটি মাটির মূর্তি, যা পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পাথরের বিগ্রহে রূপান্তরিত হয়েছে, যা বাংলার নিজস্ব স্থাপত্যরীতিতে তৈরি, যেখানে শ্বেতপাথরের মেঝে ও চুড়াহীন মন্দির দেখা যায়। Read More

Click on Google Map

This will close in 20 seconds

রাজবল্লভী কালীমন্দির

রাজবল্লভী কালীমন্দির পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মহকুমার অন্তর্গত রাজবলহাট নামক স্থানে অবস্থিত একটি বিখ্যাত কালী মন্দির। রাজবল্লভী দেবীর নামানুসারে এই জায়গাটি রাজবলহাট নামে পরিচিত। জাঙ্গিপাড়া ও রাজবলহাট সংলগ্ন এলাকায় দেবী দুর্গা রাজবল্লভী দেবী রূপে পূজিতা হন।ভূরিশ্রেষ্ঠের মহারাজা রুদ্রনারায়ণ রায়মুখুটি এই মন্দির নির্মাণ করেন ষোড়শ শতকে। Read More

Click on Google Map

This will close in 20 seconds

সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির

রামপাড়া, জাঙ্গিপাড়া, হুগলির নন্দী বাড়ির সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরটি একটি ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণমুখী দালান শৈলীর মন্দির, যা উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত এবং এতে ছয়টি খিলান রয়েছে। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে সুন্দর পঙ্খের কাজ দেখা যায় এবং এটি নন্দী পরিবারের আরাধ্যা দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে উৎসর্গীকৃত। এই মন্দিরের সঠিক ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠার তারিখ সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি, তবে এটি একটি প্রাচীন মন্দির হিসেবে পরিচিত। Read More

Click on Google Map

This will close in 20 seconds

Translate »